ঈদের ছুটিতে বান্দরবান যাচ্ছেন? সাবধান!

bandarban-hillslide
বান্দরবানের চিম্বুক রোডে ২০১৭ সালের জুন মাসে পাহাড় ধসে ৬ জন মারা যান। এ বছরও টানা বৃষ্টিতে এ ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। - ফাইল ফটো

ঈদের ছুটিতে যারা সারা দেশ থেকে বান্দরবানে বেড়াতে যেতে চান, তাদের সাবধান থাকার পরামর্শ দিয়েছেন স্থানীয়রা। মাত্র দুয়েকদিনের বৃষ্টিতেই বান্দরবান-চট্টগ্রাম সড়কের বাজালিয়া বড়দুয়ারা এলাকায় সড়ক ডুবে যাতায়াত বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বান্দরবান-চট্টগ্রাম, বান্দরবান-ঢাকা, বান্দরবান-কক্সবাজার এবং রাঙামাটি-বান্দরবান সড়ক যোগাযোগ। তাছাড়া জেলার আকর্ষনীয় পর্যটন এলাকা নীলগিরি, শৈল প্রপাত, চিম্বুকসহ দুর্গম এলাকাগুলোতে পাহাড় ধসের সম্ভাবনা প্রবল। সাঙ্গু নদীতে পানি বেড়ে যাওয়ায় থানচি উপজেলা থেকে রেমাক্রী, বড় মদক এলাকায় নৌ চলাচল সীমিত করা হয়েছে। এতে নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যটকদের চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে যে কোনো সময়। প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা জারি হলে নাফাখুম, রেমাক্রীখুম, অমিয়াখুমসহ থানচি উপজেলার পর্যটন এলাকাগুলোতে যেতে পারবেন না পর্যটকরা।

বান্দরবান-রুমা সড়কের বিভিন্ন জায়গায় ছোট ছোট মাটিধস দেখা দিয়েছে। এতে রুমা সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হতে পারে কয়েকদিনের মধ্যেই।

গত বছরের জুন মাসে রাঙামাটিতে ১১০ জন ও বান্দরবানে ৬ জনের প্রাণহানি ঘটে। এ সময় স্বাভাবিক যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বান্দরবানে বেড়াতে আসা পর্যটকরা বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র ও হোটেল-মোটেলে আটকে পড়েন। এসব কারণে এ বছরও বান্দরবানে আসা পর্যটকদের ঈদের ছুটিতে বান্দরবান আসার ক্ষেত্রে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

বান্দরবানের একটি উন্নয়ন সংস্থায় কাজ করেন প্রবীর চাকমা। তিনি জানান, ঢাকা থেকে তাঁর বেশ কয়েকজন বন্ধু ঈদের ছুটিতে বান্দরবান আসতে চেয়েছিলেন। টানা বৃষ্টির কারণে পাহাড় ধস ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কা থাকায় তাঁদেরকে না আসার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তাঁদের জন্যে মে মাসের শেষ সপ্তাহে দেয়া হোটেল বুকিংও বাতিল করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বান্দরবানের একটি আবাসিক হোটেলের ম্যানেজার জানান, আবহাওয়া এরকম থাকলে ঈদের ছুটিতে বান্দরবানে আসা পর্যটকরা সত্যিই বিপদে পড়বেন। তাঁরা কোনো রকমে হোটেল পর্যন্ত পৌঁছাতে পারলেও শহর ছেড়ে কোথাও যেতে পারবেন না। যদিও আমরা ব্যবসার কথা চিন্তা করে গেস্টদেরকে সেভাবে নিরুৎসাহিত করছিনা। তবে আবহাওয়া ভালো থাকলে বান্দরবানে বেড়ানোর ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই। আমরা গ্রাহকদের সর্বোচ্চ সেবা দেয়ার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি।

এদিকে টানা বৃষ্টিতে সাঙ্গু নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বসবাসকারী বাসিন্দাদেরকে নিরাপদে সরিয়ে নেবার জন্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে।

উত্তর দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here