বান্দরবানে আরো নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত, আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে বাড়ছে ভিড়

সন্ধ্যার পর নতুন করে বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে জেলা সদরের অরুন সারকি টাউন হল থেকে বন বিভাগ পর্যন্ত সড়কটি। ছবি- খোলা চোখ ডটকম।

উজানে ভারী বৃষ্টির ফলে বান্দরবানের সাঙ্গু নদীর পানি পাল্লা দিয়ে বেড়ে চলেছে। নদীর তীরবর্তী অনেক বাড়িঘর ভেসে যেতে দেখা গেছে। ভাঙনের কবলে পড়েছে অনেক উঁচু এলাকা।

নদীতে অব্যাহত পানি বৃদ্ধির ফলে শহরের ভেতর অনেক এলাকা নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। সন্ধ্যার পর থেকে জেলা সদরের উজানী পাড়ার বরিশাল পাড়া, বনানী স’মিল এলাকা, অরুণ সারকী টাউন হল, বাসষ্টেশন এলাকা, কাঁচা বাজার, মেম্বার পাড়ার বহু বাড়ী-ঘর তলিয়ে গেছে। এসব এলাকার মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন। রাত এগারোটার দিকে এসব স্থানে গিয়ে দেখা গেছে মানুষ নিজেদের আসবাবপত্রসহ গৃহস্থালি সামগ্রী পানি থেকে বাঁচাতে মরিয়া। অনেকেই গবাদি পশু নিরাপদে নিতে ছুটেছেন।

সাঙ্গু নদীর পানি ঢুকে পড়েছে শহরের একমাত্র কাঁচা বাজারে। রাত এগারোটায় তোলা ছবি।

এদিকে শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা অফিসার্স ক্লাব, ফিষ্ট রেষ্টুরেন্ট, হোটেল হিলটন, হিলভিউ কনভেনশন সেন্টারেও বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। সন্ধ্যার পর থেকে এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ব্যহত হয়।

বাসষ্টেশন এলাকা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যাতায়াত ব্যবস্থা পুরোই ভেঙ্গে পড়েছে। মানুষকে পায়ে হেঁটে বাধ্য হয়ে গন্তব্যে ছুটতে দেখা গেছে।

ইসলামপুর এলাকা থেকে বিকেলে তোলা ছবি।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, অন্ততপক্ষে এক হাজারেরও বেশি পরিবার এই মুহুর্তে আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন। সবগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দুর্গত মানুষের জন্য খুলে দেয়া হয়েছে।

পানির নীচে অসংখ্য বাড়ি-ঘর।

তবে, সন্ধ্যার পর যারা আশ্রয় কেন্দ্রে এসেছেন তাদের রাতের খাবার নিয়ে বিপাকে পড়তে দেখা গেছে। জেলায় সর্বমোট ১২৬ টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

বান্দরবান-চট্টগ্রাম সড়কের বাজালিয়া বড়দুয়ারা এলাকায় সড়ক ডুবে থাকায় জেলা শহরের সাথে সারা দেশের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। লোকজন বিকল্প উপায়ে যাতায়াত করছে। বান্দরবান-থানচি সড়কের জীবন নগরে পাহাড় ধসে পড়ায় থানচির সাথেও জেলা সদরের যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

উত্তর দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here